Trending

বঙ্গ-বকম গল্পের এক নতুন পর্ব -(পর্ব : ২ )

খচ্চরে ভরে যাচ্ছে চারিদিক | স্টিফ হয়ে যাওয়া ঘাড় ঘোরানোর কোনো দরকার নেই | ইতি – উতি থেকে ওরা  আপনাকেই  লক্ষ্য করবে | ছোটবেলায় শোনা সেই বিদেশী গুপ্তচরের  মতো | “জ্যান-গ্যান” এখন বিস্তর সেয়ানা |
পাড়ার পচার দোকানে এখন আর মাস-কাবারি হয় না , শীততাপ নিয়ন্ত্রিত মল-এ অফারে ট্রলি বোঝাই  বিকিকিনি | তবু এর মাঝে উৎসব  আসে | আনন্দে তাই হিসি বেঁকে গিয়ে দেয়াল মেঝে ভিজিয়ে দেয় |
উৎসব  দোলা দেয় মনে | হাসনুহানার গন্ধের মতো এক বুক প্রশস্তি | পুজো তারপর  শীত এলেই মেলা উৎসব | যেন মুক্তি | বই , গান , সিনেমা আরও কত কিছুর | যদি কিছু বাদ দিযে  থাকি তবে প্লিজ জুড়ে নেবেন | আমি-তো আর পি . এম  . বাগচীর  পঞ্জিকা লিখছি না |  ২৪ x ৭ জীবনে কখন সূর্য্যি ওঠে আর কখন বাচ্চার ন্যাপি বদলে গেছে জানা দায় |
দেখুন বিজ্ঞানের যেমন ভালো দিক থাকে , তেমনি উৎসব-র খারাপ দিক থাকে |  কিছু মনে করবেন না | আমি তো ঋতুপর্ণ নই তাই লেখায় কিছু চরিত্র কাল্পনিক | উত্সব  কে কেন্দ্র করে হাগুরের  মতো খওয়া | উদ্দাম প্রেম | ব্যপক ফিচলেমি  | ভীষণ ঝাড়িবাজি | সব মিলিয়ে ঘেঁটে ঘ | উৎসব  তাই জীবনে  ভীষণ প্রাসঙ্গিক |
উৎসব  কে কেন্দ্র করে ট্যাঁস  ভাবটাও লক্ষ করার মতো | জীবন টা যখন ‘রোববারের ডালহৌসির  মতো ‘ , দাঁড়ে বসা ময়না ছোলা খাচ্ছেনা  , তখন উৎসব  খুব দরকার | লাগবে না একা | যদিও একটা কথা মাথায় রাখবেন উৎসবের  শেষে প্রেম করুন | আর ভেঙ্গে দিন উৎসবের আগে | খরচ বাঁচাতে বলছিলাম | ভালো না লাগলে ডিলিট করুন |
আমার কাছে উৎসব  বেশ ধাক্কার এক জিনিস | অর্থনৈতিক ,মানসিক , রাজনৈতিক , সামাজিক ও শারীরিক ধাক্কার সম্মুখীন হতে হয় | ক্রমে ক্রমে টা আমি ব্যাখা করব |
উৎসব নির্ভর করে পোশাক নির্ণিত   হয় | আরও একটা দৈনন্দিন  জিনিস যেটা উৎসবের সময়  ভীষণ জরুরি সেটা  মোবাইল |
যে পোশাকে অষ্টমীর অঞ্জলি  দিয়েছেন সেটা চাপিয়ে তো আর বইমেলা, ফিল্ম ফেস্টিভালে ওই পোশাক অচল | তাই উৎসব কেন্দ্র করে যেমন বদলায় পোশাক তেমনই সঙ্গী বা সঙ্গিনী  |
উৎসব  নিয়ে আর যা কিছু হোক না কেন  মোবাইলটি  ট্যাঁক থেকে খসবে না | অন্তর্বাস  পরতে ভুলতে পারে কিন্তূ মোবাইল কদাচ না | উৎসব তাই আজ “তিন – ম”  তে আর উৎসব শেষ নয় | মোবাইল নিয়ে এখন  “চার -ম” | লোলুপ দৃষ্টিতে ঝাড়ি মারছেন তখনও  আঙ্গুল খুব সচল | আরে বলতে চাইছি sms  করছেন | আর এখন   দোসর হযেছে  ব্যাগ | যেন এক মহাজাগতিক আবিস্কার | পুরুষ হলে ব্যাগ থাকবে পিঠে , আর মহিলা হলে বুকে | উৎসবের দিনেও রেহাই নেই | ব্যাগ বহনকরিরা মনে করেন উল্টো দিকে সবাই এক এক জন ম্যাটাডোর | দে শালাদের পা মাড়িয়ে | ট্যুশো দিয়ে এগিয়া যেতেই হবে |
আমার সম্পাদক এই ধরনের ব্যাগ নিয়ে ঘোরেন | ঘোড়েল মাল | ঢালের মতো পিঠের ব্যাগটা প্রভুর পশ্চাত বাঁচাতে যেন নেমে পরেছে | অদ্ভুত এক  ব্যাগ গাড়ু থেকে কমনডুলু সব রাখা যায় |
 কেনও এই সংখ্যায় ওই  জাতীয় ব্যাগের পেছনে লাগছি | যার মারা যায়, ব্যথা কেমন শুধু সে-ই জানে | এই বার পুজোর আগে প্রেমিকার সাথে নন্দনে সিনেমা দেখতে গেছিলাম | শো শেষে বিস্তর ঠালাঠেলি, তারমাঝেই আর্তনাদ | পড়ে দেখি ওই আর্তনাদরত মহিলাটি  আমার প্রেমিকা | ব্যাগের এক বেরিয়ে থাকা দড়িতে কানের দুল আটকে গেছে | সামনের  বীর-পুংবক  কানে মোবাইল গুঁজে মাথা দোলাতে দোলাতে চলেছেন | ঘাড়ে হাত দিয়ে ডাকতেই চরম বিরক্তি ভর্তি মুখ নিয়ে “হ্যা বলুন ..”| পরিস্থিতিটা দেখালাম | ব্যাগরুপী রাবনের হাত থেকে আমার সীতাকে রক্ষা করলাম | তারপর কি হযেছিল তা পাঠক দের না জানায় ভালো | সাধারনত যা আকছার হয় গৃহপলিতদের |
হ্যা তবে, উৎসবের কথায়  ফিরে আসি | খরচ  |  ইহা অর্থনৈতিক ধাক্কা  | উৎসবকে কেন্দ্র করিয়া  ধাক্কা চক্রবৎ ফিরিয়া আইসে | নতুন জামা কাপড় কেনার দায় থাকে | মেলা উৎসব হলে টিকিট, জিনিস, খাওয়াদাওয়া | রেস্তো তখন পচে যাওয়া মাংসর মতো খসে খসে পরবে |  যদি পর্যায় ক্রমে প্রেম থাকে তবে কি কেস হয় ! ভারচ্যুয়াল ওয়ার্ড দাদা |   প্লিজ বাবা মার কথা ছাড়ুন |  শনিবারের বিজ্ঞাপনের পাতাটা খুটিয়ে পড়ছেন তো ? সস্তার  বৃদ্ধাশ্রমটা কোথায় খোঁজ পেলেন  |
আমরা যারা যে জিনিসটা বুঝি না, দেখাতে চাই সেটাতেই আমাদের কত না ব্যুৎপত্তি |এই জাতীয় সভায় কেউ বোকা বললে ক্ষতি নেই ওটাই এমন কিছু স্টেটাস নষ্ট হয় না | কিন্তূ ভাবুন যদি কেউ গান্ডু  বলে তাহলে তো  স্টেটাস বোন আর ভার্জিন থাকবেনা | তাই সাধু সাবধান !   হোক না সেটা  সংস্কৃতি | কেতা মারার অমুন কুঞ্জবন আর কি দুটো আছে এই ভুবন ডাঙাতে  | সবের শেষে আছেন  সেই রেস্কু পুরুষ | রনে বনে জলে জঙ্গলে যেখানে ফলক পুতিবে বা পুঁতি গন্ধময় তর্ক করিবে ওই জোব্বা পরা পক্ক শুল্ম -কেশের  ভদ্রলোক বাঙালিদের উদ্ধার করিবেন | জানি বা নাইবা চিনি | পরাণ সখা বলে কতা !
 কার সাথে তর্ক করছেন সেটা একটু ভাবুন | সে-ও যদি আরেকটা ট্যাঁস হয় , তবে  চাপ খুব কম | যদি দেখেন বিমার আসছে, বাঁচার জন্যে মোবাইলটা কানে নিয়ে ল্যাজ গুটিয়ে কেটে পড়ুন | এটাতে  তো  সিদ্ধহস্ত , আগেও বন্ধুদের সাথে একসাথে খেতে গিয়ে বহুবার  করেছেন | প্লিজ যাওয়ার আগে বলে যান, বসের ফোন, কথা শেষেই ফিরছি | সাবধানে পাস কাটিয়ে  বউ, মা বা কাজের লোকের খুঁত ধরুন | ফেক বাওয়াল করুন |এই জাতীয় সভায় কেউ বোকা বললে ক্ষতি নেই, ওটাই এমন কিছু স্টেটাস নষ্ট হয় না | কিন্তূ ভাবুন যদি কেউ গান্ডু  বলে, তাহলে তো  স্টেটাস বোন আর ভার্জিন থাকবেনা | তাই সাধু সাবধান !   যদি না পারেন পালাতে তবে হাল হবে ২০১১ -র cpm -র মতো  | এই পর্যায় তাই আলোচ্য বিষয় ছিল সামাজিক ধাক্কা |
মানসিক   ধাক্কা নিয়ে আর কি বা লিখব | টলি-বলি ওই ধাক্কর ঘাত প্রতিঘাত নিয়ে বক্স অফিস ভরছে ফি -সপ্তাহে  | ডেমো দেওয়ার ইচ্ছেটা ক্রমশ আমার অভ্যাসে পরিনত হচ্ছে | ধরুন বাজারে গেছেন ( ব্রিজের তলার নয়, বাজার এখন  শপিংমল) | সঙ্গী রযেছে | তবুও রাডারের মতো ঘুরছে মাথা  | হঠাত কেউ চোখে পরলো | আত্ম্গ্লানিতে  ভুগতে শুরু করলেন | অমুন যদি হত তবে কি চমত্কারই না হত | কি সুখ-ই না হত রাত্রি যাপনে | শুরু হলো ছায়ার সঙ্গে লড়াই | উদাস অথবা দেবদাস হতেই পারেন | তবে এই মানসিক পর্যায়ে দৃশ্যকামে ঢুকে পরলেই কিন্তূ  কাম সারসে  |
রাজনৈতিক ধাক্কা বড়ই সাংঘাতিক | যেটা নেই সেটা পাওয়ার বাসনা চিরন্তন | উৎসবের সময় উন্নতির শিখরে ওঠা বোসদা বা মুখার্জী বৌদির সামনা- সামনি হলেই যেন হৃদয়ে শলাকা ফোটে | “শালা, আমি  ‘চুল’ (হিন্দী প্রতিশব্দটা  পড়ুন), ডার্টি মধ্যবিত্ত-ই রযে গেলাম | গামছা পরে পেছন চুলকোতে চুলকোতে শ্যাওলা ধারা বারওয়ারী কলঘরে সকাল হতে না হতেই লাইন দিতে হয় | আর ওরা গাড়ি চড়ে জগিং করতে যায় | ” প্রতিভা-টতিভা সব সার গাদার পেছনে ফেলে দিয়ে ফ্রাসটেসনের শুঁড়-শুঁড়ি তখন শরীর জুড়ে | শীত্কার করে বলে শালা শ্রেণী শত্রু | আসুক না একবার বিপ্লব সব ঢুকে যাবে |
ব্যাস সেই মাত্র গ্রে-ম্যাটারের স্টর্মিং শুরু | পয়সা থাকলে বিদেশী  না হলে ধেনো নিয়ে ভাবতে হবে | কি ভাববেন? যে শলাকা হৃদয়ে ফুটছিল তা সাবধানে বেরকরে এনে কি ভাবে কার পেছনে ব্যবহার করবেন ! তাই তো | যদি এখনো পলিটিকালি কারেক্টে থাকতে চান তবে ইগনোর করুন ওই সব বালখিল্যতা | আর যদি ভাবেন বাঁশ কেন ঝাড়ে .. |  প্লিজ আদা জল খেযে লেগে পড়ুন | কথা দিচ্ছি, উৎসবের বাজারে পুরকি  দেওয়ার  লোকর অভাব হবে না  |
সবশেষে শারীরিক ধাক্কা | এই ধাক্কাটা দিল্লীকা লাড্ডুর মতো | ফোকোটে  যদি কেও সঙ্গ দিতে  চায় তবে টা নিয়ে আমি কিছু বলতে চায় না | যৌনতা বেশ জটিল সমীকরণ | তাই উৎসবের দিনে এই ধাক্কা সই | নিজ কক্ষে পরদার কে নিয়ে মোক্ষ লাভ হবে কিনা জানি না | তবে নিন্দের সম্ভাবনা বাড়তে পারে | তাই একটু দুরে একটু না হই লং ড্রাইভ | মাথাতে  রাখবেন বুলাদি কে | খুব  বড় দার্শনিকের মতো বলেছেন , সেফ সেক্স-র কোনো বিকল্প হয় না |
যারা  লিমিটেড মানুষ, মানে যারা লিমিটেড খায় , লিমিটেড পান করে, যারা কখনই ভাবতে পারে না, লার্জার দ্যান লাইফ বলে কিছু হয় | তারাও শারীরিক ধাক্কায় বেসামাল হযে পরেন | শুধু কি সেই মানুষ, সাধুদেরও আসন টলে যায় | তাই উৎসবের বাজারে ভীড় প্রাসঙ্গিক | ভীড় মানেই বিস্তর ধাক্কা-ধাক্কি | নিজেকে সাধু  রাখার জন্যে শুনতে পাবেন কেও কেও বলছেন “আস্তে,  জোরে ঠেলবেন না” | আমি কিন্তূ  সম্পাদকের ওই ব্যাগটার ভালো গুণ খুঁজে পেয়েছি | যারা ফাঁকা বসে মহিলা সিটের সামনে জুলু জুলু চোখে তাকিয়ে থাকেন  | ব্যাস জব্দ তারা | বিস্তর উকি-ঝুকি দিয়েও বিভাজিকা দেখা যাবে না | কনুইয়ের এক্সারসাইজ করেও লাভ নেই | তবে একটু সামলে না হলে কূল যাবে শ্যামও যাবে |
সব ধাক্কা সামলে সবের ওপরে উঠেও  কিন্তূ উৎসব আমাদের জীবনের এক অঙ্গ | রোজের ব্যস্ত জীবনে দু- দন্ডের বিশ্রাম বা পথ চলতে গিয়ে যা দেখেও দেখিনা সেগুলোই না হই ভাবি উৎসবকে ঘিরে | জীবনের বেলেল্লাপনা , ছকবাজি, না হয় ওই দিন গুলোতে না-ই করলাম | উৎসব মানে তো অনাবিল আনন্দ, তাই চলুন না দৈনন্দিনের গা-য়ের ঝাল ওই কদিনের জন্যে মুলতবি থাকুক |
ভালো থাকুন | ভালো কাটান সামনের দিন  গুলো |

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close