তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা মদন মিত্রকে ‘মাতাল” বানিয়ে দিলো গুগল!



একসময় মমতা ব্যানার্জীর খুব ঘনিষ্ঠ থাকা মদন মিত্র রাজনীতির ময়দানে প্রচুর নাম কামিয়েছিলেন। এরপর সারদা কাণ্ডে জেলে ঢোকার পর থেকে মমতা ব্যানার্জীও ওনার থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেন। এমনকি এক বছর ২১ জুলাই শহীদ দিবসের দিন মমতা ব্যানার্জীর সভাতেও ঠাই পাননি তিনি। তখন ওনাকে সময় কাটাতে হয়েছিল মঞ্চের পাশে।

কিন্তু তাতেও দমে যাননি মদন মিত্র। ধীরে ধীরে আবার রাজনীতিতে নিজের ক্যারিশমা দেখানোর জন্য তৃণমূলের হয়ে নিজের এলাকায় একের পর এক ছোট খাট সভা করতে থাকেন উনি। কিন্তু সেখানেও মমতা ব্যানার্জীর স্নেহ অর্জন না করতে পেরে, শেষমেশ ফেসবুকের সদব্যাবহার করা শুরু করলেন তিনি।

রোজ দিনে পালা করে দু একবার ফেসবুক লাইভে আসতে শুরু করলেন তিনি। এরপর তিনি রাজনৈতিক দিক না হলেও, অরাজনইতিক দিক থেকে হার্টথ্রব হয়ে উঠলেন। লাইভে আসছি পাঁচ মিনিটে … এই কথাটা লিখে তিনি নিজের ফেসবুক পেজ থেকে স্ট্যাটাস দিতেন। আর লাইভে আসার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ওনার লাইভ দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ জমা হয়ে যেত। আর এর সিংহ ভাগই ছিল বাংলার তরুণীরা। অনেক তরুণীই মদন মিত্রকে লাইভ চলাকালীন প্রপোজ ও করেছেন। কিন্তু মদন মিত্র সেসবে নজর না দিয়ে নিজের কাজ নিজে করে গেছেন।

লাইভে এসে কখনো তিনি নিজেকে নেতাজী আবার কখনো ভগবান শ্রী কৃষ্ণের সাথে তুলনাও করেছেন। এরপর ওনার এই জনপ্রিয়তা দেখে মমতা ব্যানার্জী ওনার উপর আস্থা রেখে ভাটপাড়ার বিধানসভার উপনির্বাচনে ওনাকে প্রার্থী করেন। কিন্তু সেখানে বিজেপি নেতা অর্জুন সিং এর জনপ্রিয়তার সামনে উনি মুখ থুবড়ে পড়েন।

উপ নির্বাচনে হারার পর আর লাইভে দেখা যায়নি মদন মিত্রকে। কিন্তু লাইভে না এসেও তিনি আবারও জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে গেলেন। আজ গুগলে ‘Madan Mitra” লিখে সার্চ করলেই ওনার উইকিপিডিয়াতে ওনাকে মাতাল বলে দেখাচ্ছে গুগল। ওনাকে এরকম মাতাল বলে দেখানোর কারণে সবাই ওনার নাম লিখে গুগলে সার্চ করছেন। আর এই করে উনি এখন ফেসবুক ছেড়ে গুগলেও জনপ্রিয়তা হাসিল করে নিলেন।

যদিও এটা অন্য কারোর কারসাজি বলেই মনে হচ্ছে। কারণ এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গুগলে ভিখারি দেখানো হয়েছিল। গুগলে ভিখারি লিখলেই পাক প্রধানমন্ত্রীর নাম ভেসে আসত। যদিও পরে পাকিস্তানের অনুরোধে গুগল সেটাকে ঠিক করতে বাধ্য হয়। এবার ইমরান খানের পর আমাদের সবার প্রিয় মদন দাও গুগলে জনপ্রিয় হয়ে গেলেন।



Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close