বিজয়া দশমীর দিন মা দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে ভীষণ যুদ্ধে মুঘলদের কচু-কাটা করেছিলেন মহারান প্রতাপ।


ভারতের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তক মুঘল রাজাদের কাহিনীতে পরিপূর্ণ। ইতিহাস বইতে মুঘল রাজাদের বেশি মহান হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু ভারতীয় হিন্দু রাজাদের সম্পর্কে কিছুই পড়ানো হয় না। অনেকে মনে করে যে মুঘল শাসনের পর ইংরেজ শাসন চলে এসেছিল। এই ধারণাও ভুল ইতিহাস পড়ার ফল। আসলে মুঘল শাসনকে উপড়ে ফেলার পর হিন্দু রাজরা দেশে ধীরে ধীরে হিন্দু সংস্কৃতির পুনরুত্থান করতে শুরু করেছিল। যার কিছু সময় পর ইংরেজরা ব্যাবসার সূত্রে এসে ভারতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিল। এরপর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ইংরেজদের পলায়ন করতে বাধ্য করেন। যদিও ইতিহাস বই গান্ধী, নেহেরু ও মুঘলদের নিয়েই লেখা। এমনকি নেতাজির মৃত্যু নিয়েও ইতিহাস বইতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া রয়েছে। আজ এমন এক হিন্দু রাজার সম্পর্কে আপনাদের জানাবো যাকে দেখে মুঘলরা কাপতো। সাহসিকতার কারণে ভারতের ইতিহাসে মহারাণ প্রতাপের নাম অমর হয়ে আছে।

মহারান প্রতাপ সেই রাজা যিনি মুঘল সম্রাট আকবরের অধীনতা গ্রহণ করেননি। আকবরের সেনাবাহিনী তার মোকাবিলা করতে না পারায় কয়েকবার পালিয়েও যায়। হলদিঘাটির যুদ্ধ সম্পর্কে সকলেই জানে, তবে হলদিঘাঁটির যুদ্ধের পর  অক্টোবোর ১৫৮২ সালে হয় দিবের যুদ্ধে। এই যুদ্ধ সম্পর্কে ইতিহাস বইতে খুব কম লেখা থাকে। এই যুদ্ধ মহারান প্রতাপ ও মুঘল সেনার মধ্যে হয়েছিল। যুদ্ধে মুঘল সেনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এক দিকে থেকে মহারানা প্রতাপ নিজে নেতৃত্ব করছিলেন তো অন্যদিকে উনার পুত্র নেতৃত্ব করছিলেন। বিজয়া দশমীর দিন শুরু হয় ভীষণ যুদ্ধ। মা দুর্গার আশীর্বাদ নিয়ে মা ভবানীকে স্মরণ করে শুরু হয় মুঘল বিনাশের পর্ব। মহারান প্রতাপের ছেলে অমর সিং তারা ভাল মুঘল সেনাপতির উপর এত শক্তির সাথে ছোড়েন যে ঘোড়া সহ সেনাপতির বুক চিঁরে ভাল মাটিতে গেঁথে যায়।

অন্যদিকে মুঘলদের নেতৃত্বকারী বেহলল খানকে ঘোড়া সমেত দু-টুকরো করে দেন মহারান প্রতাপ। যুদ্ধে মুঘল সেনা পরাস্ত হয় এবং বেঁচে থাকা সেনা মহারানা প্রতাপের কাছে আত্মসমর্পণ করে। মহারানা প্রতাপ প্রায় ৭ ফুট ৫ ইঞ্চি লম্বা ছিলেন। এবং তিনি প্রায় ১১০ কেজির কবচ পরতেন, কিছু জায়গায় কবচের ওজন  ২০৮ ​​কেজিও লেখা আছে। তিনি  ২৫-২৫ কেজির ২টি তলোয়ারের ভিত্তিতে যে কোনও শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেন। তাঁর কবচ ও তরোয়ালগুলি রাজস্থানের উদয়পুরের একটি যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।



Source link

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close